
নির্বাচনী মাঠে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়ে তুচ্ছ একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহআলম, তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জোট প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর শিবির। মামলায় দাবি করা হয়েছে, “তারেক জিয়ার মার্কা হরিণ”—এমন স্লোগান নাকি প্রতারণার শামিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও নিন্দার ঝড়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাহআলম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকও বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। তবে নারায়ণগঞ্জ-০৪ আসনে বিএনপি এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, বরং ভিন্ন দলের প্রতিনিধি। এতে এ আসনের ভোটার ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সেই বাস্তবতা ও জনগণের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রচারণার সময় তার সমর্থকদের কেউ কেউ আবেগের বশবর্তী হয়ে এক-দুটি স্লোগান দিতে পারেন, কিন্তু তিনি নিজে কখনোই এ ধরনের কোনো স্লোগান দেননি বা সমর্থন করেননি। এত ক্ষুদ্র একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলা দেওয়া রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহআলম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার স্ত্রী ও সন্তানরা সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক। অথচ একটি তুচ্ছ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাদের নামেও মামলা করা হয়েছে, যা ভোটারদের কাছে চরম অন্যায় ও নিন্দনীয় বলে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের মতে, শাহআলম ও তার সমর্থকরা কখনো হিংসাত্মক রাজনীতি বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই শাহআলমের পক্ষে যে গণজোয়ার ও ব্যাপক জনসমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে এই আসনে তার বিপুল ভোটে বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন অনেকেই। সেই সম্ভাবনাকে ঠেকাতেই কাসেমী শিবির পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে এ ধরনের মামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, মনির হোসেন কাসেমী শুরু থেকেই একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আসছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং জরিমানাও গুনতে হয়েছে। এছাড়াও তার প্রচারণায় বিতর্কিত ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-০৪ আসনের ভোটাররা বলছেন, কাসেমী শিবিরের এ ধরনের নেতিবাচক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিদিনই তার ভোট জ্যামিতিক হারে কমছে। বিপরীতে, শাহআলমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা এখন আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আপনার মতামত লিখুন :