
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে অপহরণ করে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আনোয়ার মাস্টারের দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার আরেক ছেলে, এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ফয়সাল এখনও পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আনোয়ার মাস্টারের ছেলে হৃদয় (৩২) ও সৌরভ (২২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গোলাম কিবরিয়া সাগর (১৯) বাড়ি থেকে বের হলে লালখাঁ এলাকায় তাকে পথরোধ করে তুলে নেয় হৃদয়, সৌরভ ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। অপহরণের সময় ও আটক অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
ছেলের সন্ধান না পেয়ে ভুক্তভোগীর মা কাকলী বেগম আত্মীয়স্বজন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও কোনো সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর লালখাঁ এলাকা থেকে অপহৃত সাগরকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে হৃদয় ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আহমেদ বলেন,
“রাস্তা থেকে এক যুবককে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল—এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক ফয়সালসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার মাস্টারের দুই ছেলে হৃদয় ও সৌরভসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মাদবর বলেন,
“যারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি কখনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয় না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপি নেতা আনোয়ার মাস্টারের ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। অবশেষে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। আমি এ বিষয়ে তথ্য নিচ্ছি । সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :