নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রার্থী ইসমাইল সিরাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৮, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রার্থী ইসমাইল সিরাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানী ওরফে কাওসারের বিরুদ্ধে কানাডার টুরিস্ট ভিসা দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, মারধর, অবরুদ্ধ করে নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. মোজহারুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী মোজহারুল ইসলাম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, এম এ এম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ও লর্ড ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিস্টের চেয়ারম্যান মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানীর সঙ্গে কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য কামরুল পাশা জুয়েল ও আব্দুল আজিজের মোট ৩২ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে জুয়েল তিন লাখ এবং আজিজ দুই লাখ টাকা নগদ প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্র স্ট্যাম্পে সম্পাদিত হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, চুক্তির পর প্রায় এক বছর ধরে কানাডা পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে নানা টালবাহানা করা হয়। পরে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ঢাকার পুরানা পল্টনে লর্ড ট্রাভেলসের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় তাদের।
মোজহারুল ইসলামের অভিযোগ, পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতেই মুফতি ইসমাইল সিরাজী ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালান। বেদরক মারধরে তিনি ও প্রবাসী আব্দুল আজিজ গুরুতর আহত হয়ে অফিসের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় চার ঘণ্টা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় হৃদরোগে আক্রান্ত আব্দুল আজিজকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনেও বাধা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতেই উল্টো অভিযুক্ত ইসমাইল সিরাজী পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ভুক্তভোগীরা তখন আব্দুল আজিজের শিশুকন্যার অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি। পরবর্তীতে থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধেই আগে জিডি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, ধর্মীয় আলেম পরিচয় ও বাহ্যিক বেশভূষার কারণে তারা অভিযুক্তকে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর তারা তাকে প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং জাতীয় অপরাধবিষয়ক একটি পত্রিকায় ভিডিও ও প্রিন্ট প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসমাইল সিরাজীকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে তাদের পাওনা চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।