সকলের নজর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন / ১০০০
সকলের নজর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন

সকলের নজর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হলেও তৃণমূল রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে নতুন স্রোত।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পাশাপাশি নির্বাচনে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা তা জানতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে সিটি করপোরেশন এবং পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের চিন্তাভাবনা রয়েছে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় নতুন বাস্তবতাঃ

সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। ফলে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একক প্রার্থী নির্ধারণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দলীয় প্রতীক না থাকলে একই দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারেন। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীকের অনুপস্থিতিতে ব্যক্তি ইমেজ, সামাজিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও তৃণমূল সংগঠনের শক্তিই হয়ে উঠবে মূল ফ্যাক্টর। ফলে কেন্দ্রের চেয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বেশি গুরুত্ব পাবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪: নীরব প্রস্তুতি, প্রকাশ্য আগ্রহঃ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘুরছে চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বৈঠক পর্যন্ত।

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত জোট প্রার্থী পরাজিত হলেও তার হয়ে কাজ করা একাধিক নেতা এখন নিজেরাই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। কেউ কেউ ইতোমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, ভিন্ন বলয়ের এমপি প্রার্থীর হয়ে কাজ করা নেতারাও বসে নেই। তারাও নিজ নিজ এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মাঠ গুছাতে শুরু করেছেন। ফলে একই দলের ভেতরে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বাড়বে প্রতিযোগিতা, বদলাতে পারে ক্ষমতার ভারসাম্য

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির ‘মিনি টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছেন। কারণ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বোঝা যাবে তৃণমূল পর্যায়ে কোন বলয়ের প্রভাব কতটা।

দলীয় প্রতীক না থাকায় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক সামর্থ্য। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থানের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজই হয়ে উঠতে পারে নির্ধারক।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় নির্বাচনের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন লড়াইয়ের মঞ্চ হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সমীকরণ সব কিছুই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও নেপথ্যে চলছে জোর প্রস্তুতি।

আগামী কয়েক মাসেই পরিষ্কার হবে কারা এগিয়ে থাকবেন এই স্থানীয় ক্ষমতার দৌড়ে, আর কারা হারিয়ে যাবেন সমীকরণের ভিড়ে।