

অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি : জামায়াত আমীর
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের অনেকেরই শুধু হাতবদল হয়েছে, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার উদ্যোগে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, “চুরি, চাঁদাবাজি ও অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ সমাজকে ধ্বংস করে। অভাবের কারণে ভিক্ষা করা জায়েজ হতে পারে, কিন্তু চুরি ও চাঁদাবাজি সর্বাবস্থায় হারাম।” তিনি মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জকে একটি “স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগরী” হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আল্লাহভীরু, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব প্রয়োজন।
বক্তব্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং বর্তমান অনির্বাচিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারকে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডেও যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত নারায়ণগঞ্জ গড়তে হলে আগামী নির্বাচনে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্বকে নির্বাচিত করতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মোঃ আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল,
ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ সহ অন্যান্যরা। উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :