ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য: বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ন / ১০০০
ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য: বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা

 

ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য: বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস। ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য, মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধরে রাখা আলোকচিত্রীদের সম্মান জানাতে প্রতিবছর দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।

 

ফটোগ্রাফি শুধু একটি ছবি ধারণের প্রযুক্তি নয়; এটি সময়কে ধরে রাখার এক অনন্য শিল্প। একটি স্থিরচিত্র অনেক সময় কোনো শব্দ ছাড়াই মানুষের আবেগ, সমাজের বাস্তবতা, সংস্কৃতি কিংবা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরতে পারে। একটি ছবি হয়ে উঠতে পারে একটি সময়ের দলিল, একটি পরিবারের স্মৃতি কিংবা একটি প্রজন্মের পরিচয়।

 

আলোকচিত্রের ইতিহাস প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো। ১৮৩৯ সালে ফরাসি উদ্ভাবক লুই দাগের এবং জোসেফ নিসেফোর নিপ্পেসের কাজের ধারাবাহিকতায় কার্যকর ফটোগ্রাফিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। দাগেরের নাম অনুসারে এই প্রযুক্তি ‘ডাগেরিওটাইপ’ নামে পরিচিতি পায়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট ফরাসি সরকার ডাগেরিওটাইপের পেটেন্ট অধিগ্রহণ করে এবং প্রযুক্তিটি বিশ্বের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ঐতিহাসিক সেই দিনটির স্মরণেই ১৯ আগস্ট বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

সময়ের সঙ্গে ফটোগ্রাফি প্রযুক্তিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সাদাকালো ছবি থেকে রঙিন আলোকচিত্র, এরপর ডিজিটাল ক্যামেরা এবং বর্তমানে স্মার্টফোন প্রতিটি ধাপই বদলে দিয়েছে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা। ১৮৬১ সালে বিশ্বের প্রথম স্থায়ী রঙিন আলোকচিত্র তৈরির নজির পাওয়া যায়। আর ১৯৫৭ সালে তৈরি হয় প্রথম ডিজিটাল ছবি, যা ডিজিটাল ক্যামেরার ব্যাপক ব্যবহার শুরুর বহু আগের ঘটনা।

 

বর্তমানে ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রও অনেক বিস্তৃত। বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি, ভ্রমণ, সংবাদ, ক্রীড়া, বিয়ে, ফ্যাশন, স্থাপত্য, প্রতিকৃতি, নবজাতক এবং ফাইন আর্ট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলোকচিত্রের আলাদা নান্দনিকতা ও কৌশল রয়েছে।

 

ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে ছবি তোলা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বিশেষ কোনো মুহূর্ত, প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময়, ভ্রমণের স্মৃতি কিংবা জীবনের ছোট-বড় আনন্দ ক্যামেরাবন্দি করে রাখছেন অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ছবি এখন ব্যক্তিগত স্মৃতির পাশাপাশি তথ্য ও মত প্রকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

 

একজন দক্ষ আলোকচিত্রী কেবল একটি দৃশ্য ধারণ করেন না; তিনি দৃশ্যের ভেতরের গল্পটিও তুলে ধরেন। আলো, ছায়া, রং, সময় ও মানুষের অভিব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ছবি হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ শিল্পকর্ম।

 

চিত্রশিল্পী যেমন রং ও তুলির মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন, তেমনি আলোকচিত্রী ক্যামেরার মাধ্যমে বাস্তবতার সৌন্দর্যকে ফ্রেমবন্দি করেন। একটি ভালো ছবি সময় পেরিয়ে বহু প্রজন্মের কাছে একটি ঘটনা, অনুভূতি কিংবা স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখতে পারে।

 

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে তাই পেশাদার আলোকচিত্রীদের পাশাপাশি ছবি তোলা, ছবি দেখা এবং স্মৃতি ধরে রাখতে ভালোবাসেন—এমন প্রত্যেক মানুষকে জানানো যায় শুভেচ্ছা। আলোকচিত্রের মাধ্যমে আরও সুন্দরভাবে ধরা পড়ুক পৃথিবী, মানুষের গল্প এবং আমাদের সময়।

 

বাংলাদেশের একজন ক্ষুদে ফটো সাংবাদিক হিসেবেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি জীবনের ৩৬ বছর। দেশের বহু ক্লান্তিলগ্নে আমার ছবি এক সময় দেশের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এখনও অসুস্থ শরীর নিয়ে দু-চারটা ছবি তুলি। আজকের এই দিনে নবীন-প্রবীণ সকল ফটোগ্রাফারকে জানাই মোবারকবাদ, অভিনন্দন।

 

জীবনে পাওয়ার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফটোগ্রাফারদের সহযোগিতায় প্রথমেই গড়ে তুলেছিলাম ফটো জার্নালিস্ট ফোরাম। এর দুই বছর পর আমাদের অগ্রজ শফিউদ্দিন বিটুর আহ্বানে নারায়ণগঞ্জের ফটো সাংবাদিকদের দুটি গ্রুপকে একত্রিত করে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটি।

 

সকলের অনুরোধে ও সহযোগিতায় আমি সভাপতি থাকা কালে অফিসটির অনুমোদন পাই এবং কমিটির সাবেক সভাপতি সহ সকল সদস্যদের নিয়ে সর্বপ্রথম জেলা কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করি। এরপর তাপস সাহা, হাজী হাবিবুর রহমান শ্যামল, এনামুল হক সিদ্দিকী সকলের সহযোগিতায় কার্যালয়ের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। এতে আমি নিজেকে সার্থক মনে করি।

 

কারণ একটা সময় নারায়ণগঞ্জে ফটো সাংবাদিকদের বসার জন্য কোনো অফিস ছিল না, আজ হয়েছে। এবং দেশের সেরা অফিসগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জেরটা অন্যতম। যারা আমাদের কাজের সহযোগিতা করেছেন, তাদের কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ।

 

আমাদের নারায়ণগঞ্জের গর্ব বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রয়াত ফটো সাংবাদিক আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম জহির ভাই, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রনি, উপদেষ্টা মতিউর রহমান সেন্টু সহ দয়াল নবীজির সকল উম্মতের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে সংবাদপত্রের সকল পেশাজীবী মূলধারার সাংবাদিকদের শুভকামনা করি।

 

লেখক পরিচিতি: মাহমুদ হাসান কচি (সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।)