
ফতুল্লার এনায়েতনগরের এসরোটেক্স গার্মেন্টস এর ঝুট নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা
ফতুল্লার এনায়েতনগরের চতলারমাঠ এলাকায় অবস্থিত এসরোটেক্স গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ঝুট বণ্টন নিয়ে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানা থেকে উৎপন্ন ঝুট বিক্রির অর্থ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বণ্টন করা হতো। এতে করে দলীয়ভাবে একটি ভারসাম্য বজায় ছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা একতরফাভাবে ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়ে দলের অন্যান্য গ্রুপ ও নেতাকর্মীদের বণ্টন থেকে বঞ্চিত করছে।
এ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং যে কোনো সময় তা বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরবর্তী ঝুট নামানোর দিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফতুল্লা এলাকায় ঝুটকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আবার নতুন করে একই ধরনের দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল দ্রুত নিরসন না হলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে না, বরং বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমন পরিস্থিতি দলটির জন্য “মরার উপর খাড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জোর দিয়ে বলছে, ঝুটের সুষ্ঠু ও ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা না হলে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো কঠিন হবে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :