Saimoon Islam প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন / ১০০০

সরকারি গেজেটে পদটির উল্লেখ নেই, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুমোদনও ছিল না। এর মধ্যেই জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার সময় ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে। বর্তমানে ওই পদে কোনো ক্লাস না থাকলেও কলেজের বিভিন্ন কাজে তাকে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের সাইট দেখাশোনার জন্য তাকে কলেজের তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবিরকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ তখন প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার সময় নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে কলেজে ‘প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ বিষয়ের অনুমোদনও ছিল না বলে দাবি করেছেন একাধিক শিক্ষক।

 

এ ছাড়া ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদটি সরকারি গেজেটভুক্ত অনুমোদিত জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয় বলেও দাবি স্থানীয়দের। ফলে ওই পদে নিয়োগের বৈধতা এবং কলেজের তহবিল থেকে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, তৎকালীন শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। জাতীয়করণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ওই পরিপত্রে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ, পদোন্নতি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

এরপর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবিরকে ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে ‘প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ বিষয়ের অনুমোদন ছিল না। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ওই বিষয়ের জন্য ইন্সট্রাক্টর পদে নিয়োগ কীভাবে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুমোদন, পদটি জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

 

 

টেকনাফে আগুনে পুড়ল ওয়ালটন-ভিশন শোরুমসহ ১০ দোকান

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়মিত পাঠদান না করলেও হুমায়ুন কবিরকে কলেজের ডাইনিংয়ের কাজ দেখা, পরীক্ষার খাতা দেখা ও পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়া বলেন, যদি পদটি অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে হয়, তাহলে কোন বিধি বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তাকে কলেজের তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার করা দরকার। জাতীয়করণের পর তার চাকরির অবস্থান কী এবং দেওয়া অর্থ কোন খাতে দেখানো হচ্ছে, সেটিও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

 

নিজের নিয়োগের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আমাকে প্রিন্সিপাল স্যার রেখেছেন। তিনি আমার কাজের জন্য টাকা দেন। আমার সাবজেক্ট নেই। আমাকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো—এ কারণে আমি হাইকোর্টে আপিল করেছি। এখন হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছি।

 

অভিযোগের বিষয়ে ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা বলেন, তার তো কোনো ক্লাস নেওয়া নেই। সে আমাদের কলেজের কনস্ট্রাকশন সাইটগুলো দেখে। এজন্য তাকে কিছু পারিশ্রমিক দিই।

 

 

বদলির খবরের পর সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিলেন ভূমি কর্মকর্তা

অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে হুমায়ুন কবিরের কোনো ক্লাস নেই। তিনি কলেজের নির্মাণকাজের সাইট দেখাশোনা করেন এবং এ জন্য তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

 

তবে প্রশ্ন উঠেছে, ‘ইন্সট্রাক্টর, প্রকৌশল অঙ্কন ও প্র্যাকটিস’ পদে নিয়োগ পাওয়া একজন ব্যক্তির কোনো ক্লাস না থাকলে নির্মাণকাজের সাইট দেখাশোনার জন্য তাকে কোন বিধি বা খাতের আওতায় কলেজের তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে।

 

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, তিনি দুটি কলেজ থেকে বেতন নেন। পাশাপাশি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেনের গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি দেখাশোনার কাজও করেন তিনি। এ কাজের জন্য সৈয়দ আবুল হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে পারিশ্রমিক নেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।

 

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে হয়েছিল, নথিপত্র যাচাই করলে তা স্পষ্ট হবে।

 

হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

 

মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, ওই কলেজে কোনো বিষয়ে যদি সাবজেক্ট না থেকে থাকে, তাহলে নতুন করে ওই সাবজেক্টের পদ সৃষ্টি করে, তারপরে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে তার থাকার কোনো সুযোগ নেই। এরকম কেউ হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।