

এক দশক পর মিশর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেই শির এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো কায়রো পৌঁছান শি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান। বিমানবন্দরে মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি ও ফার্স্ট লেডি এনতিসার আমের তাঁকে স্বাগত জানান। পরে লোকজ নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং শির ছবি সংবলিত টি-শার্ট পরা কিশোরদের সারির মধ্য দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
দুই দিনের এই সফরে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একাধিক অর্থনৈতিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মিশর তার কৌশলগত স্বাধীনতা তুলে ধরতে এই সম্মেলনকে কাজে লাগাতে চাইছে। মঙ্গলবার মিশরের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সিসি তাঁর দেশের ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’র ওপর জোর দেন।
এর কয়েক দিন আগে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকের একটি শাখার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওয়াশিংটন গত মাসে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।
ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীন অবশ্য জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শির সম্ভাব্য বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে বেইজিং।
সিসি তাঁর নিবন্ধে বলেন, ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের বিশ্বে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভূমিকা শক্তিশালী করতে মিসর ও চীন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
শির সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবহন ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একাধিক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
সিসি সরকারের গত ১২ বছরের বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে কায়রোর পূর্বদিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে গড়ে ওঠা ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট অন্যতম। আকাশচুম্বী ভবনে ঘেরা এই এলাকাটি সিসি সরকারের অন্যতম প্রধান মেগাপ্রকল্প।
সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলেই চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়ায় শি ও সিসির আলোচনায় এই অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
শির সফর উপলক্ষে কায়রোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চীন ও মিসরের পতাকা এবং শি ও সিসির ছবি সংবলিত বিলবোর্ডে সাজানো হয়েছে। ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের এই মহানগরে শির চলাচলের কারণে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার সফরের সময় শি পুরো রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গিজার পিরামিডের পাশে অবস্থিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :