

চেলসির সঙ্গে সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক শেষ করে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডারকে পেতে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে সিটি। বর্তমান বিনিময় হারে বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটি প্রায় ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা।
চেলসির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭০ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন এনজো। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন উয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তার গোল ছিল ১৫টি, সঙ্গে সাতটি গোলে অ্যাসিস্ট।
জাতীয় দলের হয়েও সাফল্যে ভরা এনজোর ক্যারিয়ার। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।
এনজোর আগে এই দলবদলের বাজারে অ্যান্ডারসন, আইয়ুব বুয়াদি, অ্যালান এলিয়াস ও ইলিমান এনদিয়ায়েকে দলে নিয়েছে সিটি। সব মিলিয়ে নতুন খেলোয়াড় কিনতে তাদের ব্যয় প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।এনজোকে দলে নিয়ে এক গ্রীষ্মেই দ্বিতীয়বার নিজেদের দলবদলের রেকর্ড ভাঙল সিটি। এর আগে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে কিনতে সর্বোচ্চ ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড, প্রায় ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল ক্লাবটি।
সিটিতে যোগ দিয়ে এনজো বলেছেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। সিটিকে আরও শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত।’
ক্লাবটির সাম্প্রতিক সাফল্য ও শক্তিশালী দলও তার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। এনজোর ভাষায়, প্রতিটি ফুটবলারই সিটির মতো একটি ক্লাবের অংশ হতে চায়। নতুন সতীর্থদের কাছ থেকে শিখে নিজের খেলাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যও জানিয়েছেন তিনি।
সিটির ফুটবল পরিচালক হুগো ভিয়ানা এনজোকে ‘পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আর্জেন্টাইন তারকার কৌশলগত দক্ষতা, পরিশ্রম, লড়াকু মানসিকতা ও গোল করার সামর্থ্য সিটির মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই দলবদলের মাধ্যমে কোচ এনজো মারেসকার সঙ্গেও আবার কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন ফার্নান্দেজ। চেলসিতে মারেসকার অধীন খেলেছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে চেলসি ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নেন ইতালিয়ান কোচ।ইংলিশ ফুটবলের যৌথ সর্বোচ্চ দলবদল ফির বিনিময়ে এনজোকে দলে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে পেপ গার্দিওলা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে দল সাজাতে থাকা ক্লাবটি। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত ইতিহাদে থাকবেন তিনি।
এনজোর দলবদলটি নতুন রেকর্ড না গড়লেও ব্রিটিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ ফির রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে আলেক্সান্দার ইসাককে কিনতে লিভারপুলও ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল।
তবে দলবদলের আরেকটি অনন্য ইতিহাস গড়েছেন এনজো। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুবার ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি দামে বিক্রি হলেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেনফিকা থেকে তাঁকে কিনতে চেলসি ব্যয় করেছিল ১০৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড। বর্তমান বিনিময় হারে সেই অর্থ প্রায় ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা।
আপনার মতামত লিখুন :