ফতুল্লায় বিএনপির উপর ভর করে টিকে থাকতে চাইছেন কাসেমী! নিজ সংগঠনের নেতাদের পাশ কাটিয়ে বিএনপি নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ন / ১০০০
ফতুল্লায় বিএনপির উপর ভর করে টিকে থাকতে চাইছেন কাসেমী! নিজ সংগঠনের নেতাদের পাশ কাটিয়ে বিএনপি নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও বিএনপি জোটের মনোনয়ন পেলেও জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। তবে আগের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অনেকটা আড়ালে চলে গেলেও এবার ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ফতুল্লা ও এনায়েতনগর এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে আসন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ধারাবাহিক ইফতার পার্টির আয়োজনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফতুল্লা ও এনায়েতনগরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর কাসেমীকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না গেলেও হঠাৎ করে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নিজ সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের তুলনামূলক অনুপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে নিজ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার না করে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পেছনে তার কৌশল কী? তবে কি তিনি ফতুল্লায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থানে থাকতে বিএনপির ওপর নির্ভর করতে চাইছেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা জানান, কাসেমী মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তাকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার পক্ষে একযোগে কাজ করেছেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রত্যেকে নিজ নিজ দলে ফিরে গেছেন।

তাদের ভাষ্য, জোটের স্বার্থে আমরা একসাথে কাজ করেছি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক অবস্থান আবার আলাদা হয়ে গেছে। এখনো তাকে ফতুল্লার শীর্ষ বিএনপি নেতাদের পাশে দেখা যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাদের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। হয়তো তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ফতুল্লায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন।

অন্যদিকে বিএনপির একটি অংশ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাদের মতে, নির্বাচনের সময় যারা কাসেমীর পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই এসব আয়োজন হতে পারে। রাজনৈতিক সৌজন্য রক্ষা ও সম্পর্ক বজায় রাখাও হতে পারে এর উদ্দেশ্য।

তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের স্থানীয় নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট রাজনীতির বাস্তবতায় এমন কৌশল অস্বাভাবিক নয়। তবে নিজ দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল রেখে অন্য দলের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মুফতি মনির হোসেন কাসেমী কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন, নাকি এটি কেবল সৌজন্যমূলক রাজনৈতিক যোগাযোগ? সময়ই দেবে সেই উত্তর।