

জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা বলা হলেও বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ৩১ দফার প্রথম দফাতেই প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পথ পরিহারের কথা বলা হয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করাই কি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালনের নমুনা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারি দলের নেতারা বারবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখার মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
হবিগঞ্জে কিশোর ছাত্র আলিফের চোখ উৎপাটনের ঘটনা এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার চেষ্টা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সামান্য রাজনৈতিক সমালোচনার বিরুদ্ধেও যারা আগ্রাসী মনোভাব দেখায়, তাদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরকারি দলের নেতাদের নিজেদের ৩১ দফা পুনরায় পড়ার এবং নিয়মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে অতীতের প্রতিশ্রুতি অনেক সময় ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ কারণেই সবাই মিলে এমন একটি সনদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা ক্ষমতায় যেই আসুক তাকে অনুসরণ করতে হবে। তবে মৌলিক কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ায় সেই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে দুই মাসের মধ্যেই বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা হতে পারত।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা ইজহার।
আপনার মতামত লিখুন :