রূপগঞ্জের সাড়ে ২৭ মণের ‘টাইটানিক’, দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ন / ১০০০
রূপগঞ্জের সাড়ে ২৭ মণের ‘টাইটানিক’, দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা

রূপগঞ্জের সাড়ে ২৭ মণের ‘টাইটানিক’, দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা

 

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকৃতির গরু নিয়ে চলছে আলোচনা।এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘টাইটানিক ’ নামের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। প্রায় সাড়ে ২৭ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

 

উপজেলার তারাব পৌর সভার মারিয়া এগ্রো`তে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের এই ষাঁড়টি। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছে এটি ছোটখাটো পাহাড়ের মতো মনে হয়। সালা ও লাল রঙের মিশ্রণে গড়া শক্তপোক্ত গঠনের গরুটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

 

মারিয়া এগ্রো`র স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্লাকভি জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় এক টন বা সাড়ে ২৭ মণ।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রচার করছেন।

 

শফিকুল ইসলাম বলেন,টাইটানিকের জন্ম মারিয়া এগ্রো এর গাভী থেকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি।কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া খাইয়ে প্রায় তিন বছর ধরে লালন-পালন করেছি।

 

তিনি আরও জানান, গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০টাকা খরচ হয়।ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে গরুটি দেখে যাচ্ছেন। তিনি ষাঁড়টির দাম ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন।উপযুক্ত দাম পেলে খামার থেকেই বিক্রি করবেন বলে জানান।

 

স্থানীয় বাসিন্দা বাইজিদ প্রধান বলেন, প্রতি বছরই মারিয়া এগ্রো বড় গরু পালন করে থাকেন।তবে এবার ‘টাইটানিকের’ আকার ও ওজনের কারণে আলাদাভাবে সবার নজর কেড়েছে।

 

উপজেলা তারাব পৌর সভার বাসিন্দা সামির বলেন,গরুটি দেখতে গিয়েছিলাম। দূর থেকে দেখে মনে হয়েছে যেন একটি হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সেলফি ও ভিডিও নিয়েছি বন্ধু ও আত্মীয়দের দেখানোর জন্য।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস জানায় এবারের কুরবানির ঈদে উপজেলায় ১৮ হাজার ৪৯৫ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

 

তিনি বলেন, ‘টাইটানিক ’ ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনায় এসেছে এবং মালিক যেন ন্যায্য মূল্য পান, সেটিই প্রত্যাশা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ‘টাইটানিক’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ততই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত গরুটি কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।