

আমাদের না জানিয়ে যুবদল নেতা সৈকতের বিরুদ্ধে মামলা নিলেন কেন, ফতুল্লা ওসিকে টিপুর প্রশ্ন!
‘আপনাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হলে আগে জানাতে হবে—এমন নিয়ম রাজনীতির কোন ধারায় আছে?’—ওসির পাল্টা জবাব
ফতুল্লায় যুবদল নেতা সৈকত রাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব হোসেনের কাছে প্রশ্ন তোলেন ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবদুল খালেক টিপু। এ সময় টিপুর প্রশ্নের জবাবে ওসি পাল্টা জানতে চান, “আপনাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ নিতে হলে আগে আপনাদের জানাতে হবে—এমন নিয়ম রাজনীতির কোন ধারায় লেখা আছে?”
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই গভীর রাতে পোস্ট অফিস মোড়সংলগ্ন রণজিৎ ফার্মেসির সামনে তৌকিরকে বহনকারী একটি অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তৌকির প্রতিবাদ জানালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর ভাই অনিক ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ফতুল্লা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা রাজু ও সৈকত রাজের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তৌকিরকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, ছেনি, লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁর দুই পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় এবং হাত ও পিঠে গুরুতর জখম করে।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় তৌকিরের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স, প্রায় ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত তৌকিরের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন সৈকত রাজ (৩৬), রাজু (৩৫), জাকির (৩৪) ও সাদ্দাম।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের দাবি, প্রধান আসামি সৈকত রাজ ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা হওয়ায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। একই সঙ্গে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের হওয়ার পর শুক্রবার রাতে ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবদুল খালেক টিপুর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতা ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে ওসি মাহবুব হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় টিপু প্রশ্ন করেন, তাদের না জানিয়ে কেন যুবদল নেতা সৈকত রাজের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
জবাবে ওসি মাহবুব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অভিযোগ নিতে হলে আগে আপনাদের জানাতে হবে—রাজনীতির কোন ধারায় এমন নিয়ম লেখা আছে?”
ওসির এমন জবাবের পর টিপু শান্ত হয়ে বলেন, “আমরা ঘটনার পর তৌকিরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হবে। তারপরও কেন মামলা করা হলো, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।”
আপনার মতামত লিখুন :