রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, হুমকি


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, হুমকি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাঁচজন শিক্ষকের ফোনে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা ও হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির’ সদস্য ও সিরাজ শিকদারের ভাই পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে কল দেওয়া হয়। বিষয়টি জানিয়ে এক শিক্ষক রাজশাহীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন জিডি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হুমকি পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও কৌশিক সরকার।

থানায় জিডি করা নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হোসেন জানান, তার কাছে পরপর দুই বার কল আসে। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার কল আসে। তখন দীর্ঘ সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে জেলে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কত টাকা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা বলে, আপনার মাথায় রিভলবার ধরে বলেনি যে আপনি টাকা ম্যানেজ রাখবেন। কলদাতা নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দেন।

অধ্যাপক শাহরিয়ার জানান, পুলিশের মাধ্যমে নম্বরটি শনাক্ত করে জানতে পেরেছেন–কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে। যে সিম নম্বর থেকে কল করা হয়েছে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির পরিচয়ে নিবন্ধিত।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাকে কল দিয়ে সর্বহারা পরিচয় দেওয়া হলে আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে কল কেটে দিই। পরে জানতে পারি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষকের কাছে এমন কল এসেছে।

সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বেশ কয়েকদিন অপরিচিত নাম্বার থেকে কল দিয়ে টাকা পয়সা চেয়েছে। বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। পরে শুনলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন হয়েছে।

গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল বলেন, অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে সর্বহারা পার্টির সদস্য দাবি করে আমার কাছে টাকা-পয়সা চেয়েছিল। দুই-তিনবার কল দেওয়ার পর আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর কল দিয়ে হুমকিও দিয়েছিল।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজুন বলেন, আমরা এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। একটি জিডিও করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে