

এনায়েতনগরের এসরোটেক্সের ঝুট নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপ মুখোমুখি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা! উত্তেজনায় ঝুট নামানো বন্ধ রাখল মালিকপক্ষ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন এনায়েতনগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান এসরোটেক্স গার্মেন্টসের ঝুটের নিয়ন্ত্রণ ও ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় এ বিরোধ বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগেও এসরোটেক্স গার্মেন্টসের ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। সে সময় থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে ঝুটের নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টন চলছিল বলে জানা গেছে।
তবে সম্প্রতি সেই সমঝোতা ও পূর্বনির্ধারিত বণ্টনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ পূর্বের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। থানা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুরো ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। আর এ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা, তৈরি হচ্ছে সংঘর্ষের আশঙ্কা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গতকাল ঝুট নামানোর কথা থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় ঝুট নামানো থেকে বিরত থাকে মালিকপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতা নিশ্চিত করে ঝুট নামানোর আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বিরোধের সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষের সঙ্গে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুটকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনার অভিযুক্ত ও মামলার আসামিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে ঝুটের এই বিরোধকে ঘিরে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ কত দূর গড়ালে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ আসবে? একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো পক্ষ যেন সংঘাতের পথ বেছে নিতে না পারে, সে জন্য দ্রুত নিরপেক্ষ উদ্যোগ নিতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার আগেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ভূমিকা নেয় কি না।
আপনার মতামত লিখুন :