

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জের মিষ্টির দোকানগুলোতে বেড়েছে লাড্ডু, নাড়ু ও ছানার মিষ্টির চাহিদা। দেবদেবীর ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য এসব মিষ্টান্ন কিনছেন ক্রেতারা। নগরের পুরোনো ও নামকরা দোকানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানেও চলছে বেচাকেনা।
নগরের কালীর বাজারের প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো আদি আদর্শ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে পূজা উপলক্ষে ভিড় করছেন ক্রেতারা। দোকানটির বিক্রেতা শম্ভু ঘোষ বলেন, ‘এখন পূজা উপলক্ষে বিক্রি বেড়েছে। আমাদের দোকানের পুরোনো ক্রেতারা আগে-পরে বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে মিষ্টি কেনেন। বিশেষ করে ছানার মিষ্টি ও লাড়ুর চাহিদা বেশি।’
নগরের জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারেও লাড্ডু ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি কিনতে আসছেন ক্রেতারা। দোকানটির এক কর্মকর্তা জানান, ছানা ও দুধের তৈরি মিষ্টির পাশাপাশি ঘিয়ে তৈরি লাড্ডুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণ লাড্ডু প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং স্পেশাল লাড্ডু ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুটিই ঘিয়ে তৈরি। এর মধ্যে সোনাই ঘোষের লাড্ডুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই লাড্ডু কিনতেই ক্রেতারা বেশি ভিড় করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিও বিক্রি হচ্ছে।’
দোকানের বাইরে ফুটপাতেও লাড্ডু বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। সেখানে প্রতি কেজি লাড্ডু ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম ও পছন্দ অনুযায়ী এসব দোকান থেকেও কিনছেন ক্রেতারা।
মিষ্টি কিনতে আসা সঞ্জয় মল্লিক বলেন, ‘ভোগ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সবার সঙ্গে খাওয়ার জন্য তিন কেজি লাড্ডু কিনেছি। প্রতি বছরই পূজায় সবার সঙ্গে মিষ্টিমুখ করি। এবারও সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতেই মিষ্টি নেওয়া।’
আরেক ক্রেতা জয় সাহা বলেন, ‘দুর্গাপূজায় মিষ্টি কেনা আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের রীতি। পূজার ভোগের জন্য যেমন মিষ্টি লাগে, তেমনি বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা এলে তাদেরও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তাই পূজার আগে পছন্দের দোকান থেকে মিষ্টি কিনে রাখছি।’
আপনার মতামত লিখুন :