ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নম্বর ক্লোন করে নানা কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জিনের বাদশা সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ফরিদপুর।

 

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনার বিবরণ দেন।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার মূলপাত্তম গ্রামের রমজান শেখের ছেলে মো. রাজিব (২৮) এবং ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (২৬)।

 

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে রাজবাড়ী জেলার বিনোদপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামকে ফোন করেন এই চক্রের সদস্যরা। সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল দেওয়ার কথা বললে ব্যবসায়িক লেনদেনের বিশ্বস্ততায় তিনি তা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিকেল ৪টার মধ্যে চাল পৌঁছে যাবে বলে বিজয় বাবুর নম্বর থেকেই আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় রশিদুলকে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হয়। প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে বেশ কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম।

 

বিকেল পর্যন্ত চাল না আসায় তিনি বিজয় বাবুর কাছে গেলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তখন ভুক্তভোগী রশিদুল বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় চাল ব্যবসায়ী রশিদুল রাজবাড়ী সদর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

 

 

পুলিশ সুপার আরও জানান, থানা-পুলিশ এই মামলার কোনো কূলকিনার করতে না পারায় বাদীর আবেদনে আট মাস পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট থেকে প্রথমে সুমন ও পরে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

 

কঠিন ও গোপন রোগের সমাধান, প্রেমে সফলতা এবং দাম্পত্য জীবনের নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখাত এই আসামিরা। কখনও জিনের বাদশা, আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজের ছদ্মবেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে তারা টাকা আত্মসাৎ করত। এসব অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এবং নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিরা।

 

এই চক্রের কেউ মোবাইল ফোন ক্লোন করে কথা বলতেন, কেউ ভুক্তভোগীর তথ্য সংগ্রহ করতেন, আবার কেউ নানা উপায়ে বিকাশ-নগদের টাকা ক্যাশ আউটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতারক ও জালিয়াতচক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।