তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ

শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি ধেয়ে আসায় শুক্রবার তাইওয়ানের অধিকাংশ দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ। ঝড়ের প্রভাবে কয়েকশ ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনটি চীন ও জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে দ্বীপটিতে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল সমুদ্রে ভেসে গিয়ে তাইওয়ানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।

 

যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় চাম্পি অল্প সময়ের জন্য সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। পরে ঝড়টির শক্তি কিছুটা কমে আসে। বর্তমানে এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭৬ কিলোমিটার বা ১০৯ মাইল।

 

শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে ঝড়ের প্রভাব আরও অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হাজার হাজার সেনাসদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

দ্বীপটির প্রায় সব এলাকায় কর্মস্থলের কার্যক্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়ায় উত্তর ও উত্তর-পূর্ব তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে।

 

 

প্রশান্ত মহাসাগরে ঝড়ের তৎপরতা বৃদ্ধি

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঝড়ের তৎপরতা বেড়েছে। টাইফুন চাম্পি চলতি ঝড়ের মৌসুমের সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি।

 

এদিকে, জাতিসংঘ বুধবার সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এল নিনো পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর নাগাদ এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সাল এবং তার পরও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

কী এই এল নিনো?

 

এল নিনো প্রাকৃতিক জলবায়ুচক্রের একটি উষ্ণ পর্যায়। এ সময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

 

এল নিনোর কারণে কোনো কোনো অঞ্চলে খরা, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে এর প্রভাব মিলিত হয়ে কিছু এলাকায় চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও তীব্র করে তুলতে পারে।