বন্দরের ১৪ মামলার আসামী ক্যাডার সোহেল র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ন / ১০০০
বন্দরের ১৪ মামলার আসামী ক্যাডার সোহেল র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

বন্দরের ১৪ মামলার আসামী ক্যাডার সোহেল র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

 

জনপ্রতিনিধির পরিচয়ের আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ছিলো দীর্ঘদিন ধরেই। অবশেষে র‍্যাবের অভিযানে ধরা পড়লেন নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বহুল আলোচিত সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’। স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত ১৪টি মামলা।

 

শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরে তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোহেল ওই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে ওঠে, যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

 

অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় নতুন ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই সোহেল মেম্বারের লোকজনকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো। কেউ অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটত নিয়মিত।

 

ড্রেজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ছিল তার প্রভাব। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও আড়ালে তার বাহিনীর দৌরাত্ম্যের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া জমি দখল ছিল আরেকটি বড় অভিযোগ। প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি ও ভিটেমাটি দখল, ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি লিখে নেওয়া কিংবা পেশিশক্তি প্রয়োগে উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। সোহেল মেম্বারের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় স্বস্তির অনুভূতি ফিরে এসেছে।

 

স্থানীয়দের আশা, জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।