এনায়েতনগরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিপির যুবাইর, অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ন / ১০০০
এনায়েতনগরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিপির যুবাইর, অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং নাগরিক সুবিধার চরম অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থিত এনায়েতনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পরিদর্শন শেষে যুবাইর আহমেদ সরদার বলেন, “এর আগে যখন আমি এখানে এসেছিলাম, তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বন্ধ পেয়েছিলাম। তবে আজ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন এবং তারা নিয়মিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কর্মরত অফিসারদের কাজ করার সদিচ্ছা থাকলেও সরকারিভাবে তাদের সেই ন্যূনতম সক্ষমতা বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। অত্যন্ত অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এখানে সেবা দিতে হচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পুনর্নির্মাণের কথা আমরা শুনেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি বা খবর নেই। এই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ঠিক কোন পর্যায়ে আছে এবং কতদিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব, তা জানার জন্য আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব।”

 

মৌলিক সুবিধার অভাব ও টয়লেটে পানি নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে যুবাইর আহমেদ সরদার বলেন, “ভেতরে রোগীদের জন্য একটা ফ্যান পর্যন্ত নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখানে যে টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে পানির কোনো ব্যবস্থাই নেই! টয়লেটে যাওয়ার পর যদি পানির ব্যবস্থা না থাকে, তবে তা মানুষের ওপর এক ধরনের জুলুম। এই এলাকায় লাখ লাখ মানুষ বসবাস করে। তারা যদি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ন্যূনতম পানির সুবিধাটুকুও না পায়, তবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।”

 

দুই মাস ধরে ওষুধ সংকট হাসপাতালের চিকিৎসকদের আন্তরিকতার প্রশংসা করলেও ওষুধের সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান এই নেতা। তিনি বলেন, “কর্মরত অফিসাররা তাদের সমস্যার কথা আমাদের জানিয়েছেন। তারা গত দুই মাস ধরে সরকারি কোনো মেডিসিন (ওষুধ) পাচ্ছেন না। তাদের বলা হচ্ছে, নতুন বাজেট আসলে নাকি ওষুধ আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন বাজেট আসার আগে এই দুই মাস যদি কোনো রোগীর জরুরি ওষুধের প্রয়োজন হয়, তবে তারা কী করবে? তারা কি ওষুধ ছাড়াই থাকবে? এখানে সেবা নিতে আসা সব মানুষ তো আর বাইরে থেকে ওষুধ কেনার মতো স্বাবলম্বী নন।”

 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বলেছি, যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। যদি বিশেষ কোনো বরাদ্দের প্রয়োজন হয়, তবে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) মাধ্যমে সেই বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”