ওসমান বলয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী শফিউদ্দিন প্রকাশ্যে সক্রিয়, গোপন বৈঠক ও নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নগরজুড়ে তোলপাড়


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ন / ১০০০
ওসমান বলয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী শফিউদ্দিন প্রকাশ্যে সক্রিয়, গোপন বৈঠক ও নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নগরজুড়ে তোলপাড়

ওসমান বলয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী শফিউদ্দিন প্রকাশ্যে সক্রিয়, গোপন বৈঠক ও নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নগরজুড়ে তোলপাড়

 

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নাসিক ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অনুসারী হিসেবে পরিচিত এ নেতার বিরুদ্ধে এবার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নতুন রাজনৈতিক নীলনকশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের ভাষ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যারা নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতেন, শফিউদ্দিন তাদের অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শুধু ওসমান পরিবারের অনুসারীই ছিলেন না, বরং তাদের রাজনৈতিক বলয়ের সক্রিয় মাঠপর্যায়ের পরিচালকদের একজন হিসেবেও কাজ করেছেন। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

জানা গেছে, সেলিম ওসমানের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণা, শোডাউন, কর্মী সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সবসময় অগ্রভাগে দেখা যেত শফিউদ্দিনকে। একইসাথে শামীম ওসমানের সভা-সমাবেশেও মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। শুধু অংশগ্রহণই নয়, প্রকাশ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওসমান পরিবারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে বক্তব্য দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিগত দেড় দশকে অসংখ্যবার তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন— “সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান আমার নেতা, আমরা তাদের সাথেই আছি এবং থাকবো।”

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় শহরের কালীবাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বসতো গোপন রাজনৈতিক বৈঠক। সেখানে শফিউদ্দিনসহ ওসমান বলয়ের ঘনিষ্ঠ নেতারা বসে রাজনৈতিক পরিকল্পনা, প্রভাব বিস্তার এবং মাঠ নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল নির্ধারণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও ওসমান পরিবারের প্রভাব ব্যবহার করে রেলওয়ের জায়গা দখল, প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা বলছেন, ওসমান পরিবারের ছত্রচ্ছায়া থাকায় তখন কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। প্রতিবাদ করলেই নানা চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হতো।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও শফিউদ্দিন প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন এবং ওসমান বলয়ের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকেন। আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিভিন্নভাবে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওসমান বলয়ের আধিপত্য ভেঙে পড়লে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শফিউদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন— যারা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে, ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ওসমান বলয়ের হয়ে মাঠে কাজ করেছে, তারা কীভাবে আবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা চালায়?নগরবাসীর একাংশ বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরেছে, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সেই ঘটনায় যাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা মনে করেন, ওসমান পরিবারের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছে, নারায়ণগঞ্জে পুনরায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে নজরদারিতে আনতে হবে। একইসাথে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।