

অস্ট্রেলিয়া সফরে জয়ের চেয়েও বড় কিছু পেয়েছে বাংলাদেশ, নিজেদের সামর্থ্যের ওপর নতুন বিশ্বাস। ডারউইনে নয় উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের চোখে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য স্পষ্ট বার্তা। বাংলাদেশ এখন যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।
দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে শুক্রবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিলেও ম্যাকা্ইতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। তবে সেই হার ছাপিয়ে তালহার কাছে বড় হয়ে উঠেছে পেসারদের পারফরম্যান্স এবং দলের মানসিকতায় আসা পরিবর্তন।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তালহা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটকে একটি বার্তা দিয়েছে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। সামনের সফরগুলোতে এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক কাজে দেবে।’
দেশের বাইরে টেস্ট জিততে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের পেসাররা এখন সেই কাজটি করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ।
তালহা বলেন, ‘পেসাররা ভালো করলে দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের বাস্তব আশা করা যায়। একটি টেস্ট জিততে ২০ উইকেট নিতে হবে। আমাদের জন্য এটি অবশ্যই ভালো লক্ষণ। আশা করি, তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে।’
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নয় উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং অবশ্য চরমভাবে ব্যর্থ হয়। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। তবে সেখানেও উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার, যা দেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং।
দ্বিতীয় টেস্টের ফল আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তালহা। ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি টসকেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন তিনি।তালহা বলেন, ‘ব্যাটাররা আরেকটু ভালো করলে দ্বিতীয় টেস্টে ফল অন্য রকম হতে পারত। ওই ম্যাচে টস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উইকেটে টেনিস বলের মতো বাড়তি লাফ ছিল, যার সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি। টস আমাদের পক্ষে গেলে ফল উল্টেও যেতে পারত।’
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। দলের বিশ্লেষক শাওনের সহায়তায় প্রতিটি ব্যাটারের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তালহা। মাঠে সেই পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও দলের ভেতরে বিশ্বাসের ঘাটতি ছিল না। প্রতিপক্ষের নাম নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ডারউইনে সাফল্য এনে দেয় বাংলাদেশকে।
তালহা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব। প্রস্তুতি ম্যাচটি ভালো যায়নি, কিন্তু আমরা সেটিকে একটি খারাপ দিন হিসেবেই দেখেছি। প্রতিপক্ষকে নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিলে ভালো কিছু করা সম্ভব, এই বিশ্বাস সবার ছিল। প্রথম টেস্টে আমরা যেভাবে দাপট দেখিয়ে জিতেছি, সেটি সত্যিই আনন্দের।’
আপনার মতামত লিখুন :