কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লস্টিকের কণা


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ন / ১০০০
কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লস্টিকের কণা

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে দখল ও দুষণের প্রভাব পড়ছে মাছে। হ্রদের সুস্বাদু মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হ্রদের চারপাশে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি বর্জ্য সরাসরি ফেলায় সৃষ্ট দূষণের প্রভাবেই হ্রদের কাচকি, চাপিলা ও টেংরা মাছে বাসা বাঁধছে এই নীরব ঘাতক। ফলে পুরো অঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল এবং মানবদেহের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

 

 

বছরে প্রায় ২০ হাজার টন মাছের যোগান দেওয়া কাপ্তাই হ্রদে অপরিকল্পিত বর্জ্য ও প্লাস্টিক ফেলার কারণে এই মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ৫ প্রজাতির ৭৫টি নমুনার সব কটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে কাদা থেকে খাবার নেওয়া টেংরা মাছে প্রতি গ্রামে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৬৩টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার ৮৫ শতাংশই ফাইবার বা সুতা এবং ৭১ শতাংশ পলিথিন উপাদান। বিশেষ করে কাদায় বাস করা টেংরা মাছে ফাইবার ও পলিথিনের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা ও স্থানীয় বাজারগুলো থেকে ফেলা বর্জ্য এই পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

 

গবেষণায় যুক্ত গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, কাপ্তাই হ্রদের ছোট মাছগুলো সাধারণত নাড়িভুঁড়িসহ পুরোটা রান্না করে খাওয়া হয়। ফলে মাছে জমে থাকা এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা সহজেই মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত মাছ খেলে দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের শরীরে প্রদাহ, মেটাবলিক সমস্যাসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।