নতুন দায়িত্ব নেওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পরিচয়


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন / ১০০০
নতুন দায়িত্ব নেওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পরিচয়

মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর স্বাক্ষর করছেন (বাঁ থেকে) আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

 

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন করে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন।

 

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন ছয়জনকে নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।

 

নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

 

আবদুল মঈন খান

 

আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। নরসিংদী-২ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

 

১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে তার জন্ম। তার বাবা আবদুল মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন মঈন খান।

 

নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষা নেন তিনি। পরে অধ্যাপনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

এর আগে একাধিকবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন মঈন খান। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরের বছর বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী হন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

 

নরসিংদী-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মঈন খান। প্রায় দুই দশক পর আবার মন্ত্রিসভায় ফিরলেন তিনি। এবার নিয়ে চতুর্থবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেলেন তিনি।

 

সাচিং প্রু জেরী

 

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

 

সাচিং প্রু জেরী বোমাং সার্কেলের রাজপরিবারের সন্তান। তার বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা ও রাজনীতিবিদ। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

 

কে এই নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

সাচিং প্রু জেরীর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি বান্দরবান পৌরসভার ক্যাংভিটা এলাকায়। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

 

এর আগে বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পদটি আগে দীপেন দেওয়ানের দায়িত্বে ছিল। তিনি পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়। এবার সেই দায়িত্ব পেলেন সাচিং প্রু জেরী।

 

আন্দালিভ রহমান পার্থ

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। বিএনপির জোটসঙ্গী হয়ে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল তার জন্ম। তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র।

 

সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন পার্থ।

 

২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। একই বছর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পার্থ। এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন তিনি।

 

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আগের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

 

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

 

প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এত দিন তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মিল্লাত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

 

১৯৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালিকাপুর গ্রামে তার জন্ম। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবারও সংসদ সদস্য হন।

 

মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

হুমায়ুন কবির

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হন তিনি। তার জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে। তবে দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠেছেন।

 

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন হুমায়ুন কবির। পরে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে রাজনীতি, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ব্যবস্থাপনা এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

পেশাগত জীবনেও ব্রিটিশ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। লন্ডন মেয়রের দপ্তরে প্রকৌশল সহকারী এবং লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে এখন এ মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন খলিলুর রহমান।

 

শামীম কায়সার লিংকন

 

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তার বাবা আবদুল মোত্তালেব আকন্দ গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি ছিলেন।

 

এমপি থাকা অবস্থায় বাবার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন শামীম কায়সার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবারও গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

 

শিক্ষাজীবনে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেন। মালয়েশিয়ার আইআইএফ থেকে আইসিটিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তার অধীনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শামীম কায়সার লিংকন।