সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১১, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ন / ১০০০
সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাস (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পিবিআই জানায়, নিহত তানিয়া আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার মাতবর বাড়িতে স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। গত ২৬ জুলাই সকালে তানিয়ার স্বামী তার খালা নাছিমা আক্তারের বাসায় গিয়ে তাদের বাসার চাবি দিয়ে জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে এবং দুপুরে তাকে বাসায় যেতে হবে।

 

তবে নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন তানিয়া গার্মেন্টসে যাননি। পরে তিনি বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তানিয়াকে মশারির ভেতরে পড়ে থাকতে দেখেন। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে তার নাক-মুখে রক্ত দেখতে পান এবং শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন তানিয়া মারা গেছেন।

 

পরে স্থানীয়রা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়।

 

এ ঘটনায় নিহতের খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১০ আগস্ট রুজু করা হয়।

 

পিবিআই জানায়, ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। তদন্তে তানিয়ার সঙ্গে তার স্বামী সোহাগের ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করার তথ্য পাওয়া যায়।

 

বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হতো। সোহাগের কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান না থাকায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, সোহাগ প্রায়ই তানিয়াকে মারধর করতেন।

 

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর সোহাগ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ঢাকার খিলগাঁও, পরে মেরাদিয়া ও সোবহানবাগ এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এসব এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার ভোরে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তানিয়া হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার রাতে সাংসারিক অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

 

পিবিআই আরও জানায়, পরদিন সকালে তানিয়ার মরদেহ ঘরে রেখে তার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন সোহাগ। পরে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে চাবি তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

 

গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়া জুলহাসকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি তানিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল-এর তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান-এর নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।