অয়ন ওসমানের নির্দেশে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনায় ছাত্রলীগ


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৫, ২০২৫, ১:১৬ অপরাহ্ন / ১০০০
অয়ন ওসমানের নির্দেশে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনায় ছাত্রলীগ

অয়ন ওসমানের নির্দেশে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনায় ছাত্রলীগ

 

*ছাত্রলীগের পদধারী নেতাদের নেতৃত্বে হচ্ছে ঝটিকা মিছিল

*সোহানুর রহমান শুভ্রর মাধ্যমে নাশকতার জন্য ফান্ডিং করছেন অয়ন ওসমান

*ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের নেশায় এ ধরনের নাশকতায় জড়াচ্ছে ছাত্রলীগের নেতারা

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ের একের পর এক ঝটিকা ও মশাল মিছিলের পেছনে উঠে এসেছে সাবেক এমপি ও ক্ষমতাশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের নাম।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তার নির্দেশেই নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় ছাত্রলীগের একটি অংশ সুপরিকল্পিতভাবে নাশকতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও, সাম্প্রতিক ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর হঠাৎ করেই দলের বিভিন্ন স্তরের অনেক নেতা–কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। কেউ দেশ ত্যাগ করেছেন, কেউ আবার গ্রেফতার এড়াতে লুকিয়ে রয়েছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
এখন নারায়ণগঞ্জে মাঝেমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা ও মশাল মিছিল দেখা যাচ্ছে, যা প্রশাসনের নজর কেড়েছে।

চলতি সপ্তাহের শনিবার রাতে ফতুল্লার সাইনবোর্ড পাসপোর্ট অফিসের সামনে এমনই এক মশাল মিছিল থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা পাঁচজনকে আটক করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন শুভর নেতৃত্বে তারা এই মিছিল আয়োজন করে, যার লক্ষ্য ছিল পরিকল্পিত নাশকতা।

এর আগে স্বল্প ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ঝটিকা মিছিল সংঘটিত হয়েছে। এমনকি ঢাকার গুলিস্তানসহ আশপাশের কিছু মিছিলও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সদস্যদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, অয়ন ওসমান নারায়ণগঞ্জে আটকা পড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছেন সুপরিকল্পিতভাবে। কেউ গ্রেফতার হলে তার মামলা পরিচালনা ও পরিবারের খরচের দায়িত্বও নিচ্ছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিতভাবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কিভাবে ঝটিকা মিছিল, সংঘর্ষ ও নাশকতা সংগঠিত করা যায়, তার কৌশল নির্ধারণ করছেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শুভ্র ইতিমধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন এবং বিদেশ থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ফান্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন
জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন শুভ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব সুস্মিত, ফতুল্লা থানা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক পাপন সরকার, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউন সিনহা, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনারুল। এদের অনেকে নাশকতা পরিকল্পনার সরাসরি বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অয়ন ওসমান প্রতিটি নেতাকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
প্রত্যেকে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক একটি করে “মিশন” পরিচালনা করছে যার মূল লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও বৃহৎ আকারের নাশকতা সংঘটন।
এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, লজিস্টিক সহায়তা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন অয়ন ওসমান নিজে।

রাজনৈতিক সচেতনরা বলছেন, এই কার্যক্রম যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু স্থানীয় রাজনীতির জন্য নয়, বরং পুরো নারায়ণগঞ্জের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

 

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তারা জানিয়েছে, যারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র আরও বলছে, দিন যত গড়াবে, এই মিছিল ও সহিংসতার তৎপরতা তত বাড়বে। তাদের লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করা।

এখন দেখার বিষয়
নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন এই নাশকতার পরিকল্পনা ও তৎপরতা কতটা প্রতিহত করতে পারে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।