

ইসরায়েলে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলেছে তার দল লিকুদ।
ইসরায়েলে সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু লিখেছেন, ‘তাদের সঙ্গে সরকার গঠন করা নিষিদ্ধ।’ এর মাধ্যমে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক জোট গঠনের বিরোধিতা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর নেতানিয়াহুর দল লিকুদ অভিযোগ করেছে, দলগুলো ‘নির্বাচন চুরি’ করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
রয়টার্সের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। তবে নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ইয়েমেনে হুতির বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু
ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ ও তার মিত্রদের জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন।
অপরদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে মোট ১৯টি আসন, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ অর্জন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের পক্ষে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বিরোধী জোটের মধ্যেও আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন কিংবা তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা ঠেকাতে নেতানিয়াহু ও তার মিত্রদের বক্তব্য বিরোধী শিবিরের ওপর চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে দীর্ঘ রাজনৈতিক দর-কষাকষির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে, নাকি রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আপনার মতামত লিখুন :