

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর অস্ত্র হাতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সমালোচনা করেছেন ফটোসাংবাদিক মাহমুদ হাসান কচি। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে হেফাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াদের হাতে অস্ত্র দিয়ে ছবিটি তোলা হয়েছিল। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্ট্যাটাসে কচি নিজেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর এক জুনিয়র ফটোসাংবাদিকের অনুরোধে তিনি মোটরসাইকেলে নিয়ে ঢাকার টিকাটুলীতে তৎকালীন র্যাব কার্যালয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের একজন অস্ত্রসহ আটক হয়েছেন এমন তথ্য জানিয়ে ছবি তোলার জন্য তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।
কচি লিখেছেন, সেখানে গিয়ে তিনি রিয়াদকে দেখতে পান। প্রথমে টেবিলে অস্ত্র ও গুলি রেখে ছবি তোলা হয়। পরে তাঁর সঙ্গে যাওয়া ফটোসাংবাদিক রিয়াদের হাতে পিস্তল দিয়ে ছবি তোলার কথা বলেন। ‘বসের নির্দেশ’ উল্লেখ করে ওই ছবি তুলতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ করেন বলে দাবি করেন কচি।
তাঁর অভিযোগ, ওই সহকর্মী একাই অস্ত্র হাতে ছবিটি তোলেন। কার্যালয় থেকে বের হয়ে তিনি ফোনে একজনকে ‘এমপি সাহেব’ সম্বোধন করে কথা বলেন। এরপর বিভিন্ন পত্রিকায় ছবিটি প্রকাশের জন্য অর্থসহ পাঠানো হয় বলে স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন কচি। তবে সংশ্লিষ্ট ফটোসাংবাদিক বা সাবেক সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
কচি আরও দাবি করেন, ওই দিন তাঁকেও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা তিনি গ্রহণ করেননি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি তাঁকে মানসিকভাবে ব্যথিত করেছিল এবং পরে তিনি রিয়াদকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে জানতে পারেন।
স্ট্যাটাসে কচি লিখেছেন, রিয়াদের পরিবার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন করেছিল। পরবর্তী সময়ে তদন্তের ভিত্তিতে রিয়াদ চার দিনের মধ্যে মুক্তি পান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই মাসের মধ্যে মামলা থেকে খালাস পান বলে দাবি করেন তিনি।
কচি জানান, তাঁর সঙ্গে যাওয়া ওই ফটোসাংবাদিক মারা গেছেন। রিয়াদের প্রতি তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :