

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফলে লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪১ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোট ৮ হাজার ৭৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ৬২৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ হাজার ১৫৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮১ জন শিক্ষার্থী।
জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ফজুমিয়ার হাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ, তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ফজুমিয়ার হাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ থেকে তিনজন, তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।
এ বিষয়ে অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির অভাবেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও পরিবেশ পর্যালোচনার দাবি জানান।
মুন্সীগঞ্জে তিন কলেজে ১৩ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বাহার বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের নিজস্ব কোনো শিক্ষক নেই। অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে কার্যক্রম চালানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগের অভাবও একটি বড় কারণ।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী যেসব কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :