প্যালিয়েটিভ কেয়ার জটিল রোগীদের বেঁচে থাকার সাহস জোগায়


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ন / ১০০০
প্যালিয়েটিভ কেয়ার জটিল রোগীদের বেঁচে থাকার সাহস জোগায়

ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি ও এইডসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় যখন চিকিৎসকেরা ‘আমাদের আর কিছু করার নেই’ বলে দেন, তখনো প্যালিয়েটিভ কেয়ার রোগীকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। স্বজনদের ভালোবাসা, যত্ন ও সহায়তা রোগীকে বেঁচে থাকার সাহস জোগায় এবং যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করে। জীবনের শেষ সময়েও যেন রোগী নিজেকে একা বা ভালোবাসাহীন মনে না করেন, সে জন্য হাসপাতালগুলোতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন রোগীর স্বজনেরা।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর দেওভোগের নাগবাড়িতে নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির অডিটোরিয়ামে ‘মাতৃছায়া আঞ্জুমান সংস্থা’র সহযোগিতায় ‘মমতাময় নারায়ণগঞ্জ’ এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

মাতৃছায়া আঞ্জুমান সংস্থার সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ‘মমতাময় নারায়ণগঞ্জ’-এর রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ওয়াহেদা পারভীন, ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ হাসান হাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাদা হোসেন চয়ন, বৃষ্টি রানী দে ও হুমায়ুন কবির।

 

নগরীর মাসদাইর গোরস্থান এলাকা থেকে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মনিরা দিলশাদ তানি। তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলে ফাহাদ বিন ফারুক হাসান বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী। ছেলেকে বিছানা থেকে একা তুলে গোসল করানোর মতো কাজও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। এ জন্য অন্যের সহায়তা নিতে হয়। ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কোথাও যাতায়াত করাও তাঁর জন্য বেশ কঠিন।

 

পশ্চিম মাসদাইরের হৃদরোগী দেলোয়ারা বেগমের মেয়ে ইশরাত জাহান জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। এখন প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মাকে কী চিকিৎসা দেবেন, তা নিয়ে অনেক সময় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তে হয় তাঁকে। বিশেষ করে ঈদ ও পয়লা বৈশাখের মতো ছুটির দিনে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁরা বেশ অসহায় বোধ করেন।

 

প্যালিয়েটিভ কেয়ারের কর্মীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় তাঁদের কার্যালয় রয়েছে। এ ধরনের রোগীর স্বজনেরা সেখানে যোগাযোগ করলে কর্মীরা রোগীর বাড়িতে গিয়ে কীভাবে পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবা দিতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও থেরাপির ব্যবস্থাও করেন তাঁরা। অনলাইনেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ কার্যক্রমের আওতায় রোগী বা তাঁর স্বজনদের কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় না।