মহান শিক্ষা দিবস আজ


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
মহান শিক্ষা দিবস আজ

আজ মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

 

 

১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পাকিস্তান সরকার শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। পরের বছর ২৬ আগস্ট কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে থাকা বিভিন্ন সুপারিশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দেয়।

 

শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্স তিন বছর করার মতো সুপারিশও করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত এবং বৈষম্যমূলক করার উদ্যোগ হিসেবে দেখেন।

 

১৯৬২ সালের আগস্ট থেকে এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হন।

 

আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে আহত হন বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে ওয়াজিউল্লাহ মারা যান।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলন আরও বেগবান হয়। পরে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করা হলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।

 

শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬২ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং এতে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।