চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের সমালোচনা করলেই বিএনপির নেতাদের গায়ে লাগে: এমপি আল আমিন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ন / ১০০০
চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের সমালোচনা করলেই বিএনপির নেতাদের গায়ে লাগে: এমপি আল আমিন

চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের সমালোচনা করলেই বিএনপির নেতাদের গায়ে লাগে: এমপি আল আমিন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, চাঁদাবাজি, ঝুঁট সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতার প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, অপকর্মের সমালোচনা করায় বিভিন্ন মহল অযথা আপত্তি তুলছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্ট্যাটাসে আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ড এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কারা চাঁদাবাজি করেছে, তা সবাই জানে। তিনি দাবি করেন, ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টসে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কৃত রিয়াদ চৌধুরী এখনও বিএনপির নেতা হিসেবে রয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, ঝুঁট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এক মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী শিশু গুলিবিদ্ধ হলেও এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। তবে ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বললেই আপত্তি তোলা হয়। তার দাবি, ঝুঁট সন্ত্রাসের মামলায় কারাভোগ করা ছাত্রদল নেতারাও এনসিপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

স্ট্যাটাসে আব্দুল্লাহ আল আমিন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং গণআন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ বলেছিলেন। এমন একজনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বললেও বিএনপির নেতাদের আপত্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার পর তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল।

 

আব্দুল্লাহ আল আমিন আরও বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে একজন এমপির ছেলে বহিষ্কার হয়েছেন, যুবদলের এক সাধারণ সম্পাদক শোকজ হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় লজ্জা না পেলেও কেউ বিষয়গুলো তুলে ধরলেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন।

 

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। তিনি গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন।

 

আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট ছাড়া কারও সঙ্গে আমাদের শত্রুতা নেই। তবে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ঝুঁট দখল ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আমরা কথা বলবই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা কারও পরোয়া করি না।”