

আজ ভয়াল ১৬ জুন: নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায়, বিচার শেষ হয়নি ২৫ বছরেও
আজ ১৬ জুন। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও শোকাবহ দিন। ২০০১ সালের এই দিনে শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলায় ২০ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের স্বজন ও আহতদের জন্য দিনটি এখনও বয়ে আনে গভীর বেদনা ও ক্ষতের স্মৃতি। ঘটনার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারকাজ, যা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে।
২০০১ সালের ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে চাষাঢ়াস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় দলীয় নেতাকর্মীরা একটি সভা শেষে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিহত হন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ জন নেতাকর্মী। আহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
বিভিন্ন তদন্ত ও আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা প্রায় এক যুগ আগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। মামলায় ৫৬ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও সাক্ষ্যগ্রহণের ধীরগতির কারণে বিচারকাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে।
নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা শুধু অপেক্ষা করছেন। অনেক বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান বিচার না দেখেই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। যারা বেঁচে আছেন তারাও জীবনের শেষ সময়ে এসে দোষীদের বিচার দেখে যেতে চান। আহতদের অনেকেই এখনও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও মানসিক ট্রমা নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ১৬ জুন শুধুই একটি তারিখ নয়; এটি একটি রক্তাক্ত স্মৃতি, একটি অসমাপ্ত বিচার এবং স্বজন হারানোর দীর্ঘশ্বাসের নাম। ২৫ বছর পরও সেই ক্ষত শুকায়নি। নিহতদের স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন আর বিলম্বিত না হয় এবং ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
যারা নিহত হন:
সেদিন নিহত হয়েছিলেন শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সহোদর সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস আকতার হোসেন ও সঙ্গীত শিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু, সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ বি এম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, আবু হানিফ, এনায়েতউল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক মহিলা।
আপনার মতামত লিখুন :