আওয়ামী দোসর রাজ্জাকের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন, অতিথি টিটু-রনি; সমালোচনার ঝড়


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন / ১০০০
আওয়ামী দোসর রাজ্জাকের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন, অতিথি টিটু-রনি; সমালোচনার ঝড়

আওয়ামী দোসর রাজ্জাকের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন, অতিথি টিটু-রনি; সমালোচনার ঝড়

 

 

কুতুবপুর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন রামারবাগ এলাকার আব্দুর রাজ্জাক। তবে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত রাজ্জাকের এমন আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান, শাহ নিজাম, সাজনুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ককে পুঁজি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও নানা অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব নেতার নাম ব্যবহার করে এলাকায় একধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও রাজ্জাক প্রকাশ্যেই এলাকায় অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি নিজেকে বিএনপির কর্মী-সমর্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন রাজ্জাক—এমন অভিযোগ তুলে সমালোচকরা বলছেন, সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকা নিয়ে। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তির আয়োজনে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি কতটা যৌক্তিক।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানটি কুতুবপুর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির ব্যানারে আয়োজন করা হলেও ওই ওয়ার্ড বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতাকে আয়োজনে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিও থাকছে না বলে জানা গেছে। এ বিষয়টিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, বিষয়টি বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য না পাওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।