যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি হবে, সে ওয়ার্ডের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হবে: নাসিক প্রশাসক


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ন / ১০০০
যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি হবে, সে ওয়ার্ডের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হবে: নাসিক প্রশাসক

যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি হবে, সে ওয়ার্ডের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হবে: নাসিক প্রশাসক

 

 

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) কার্যক্রম আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাড. মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, “যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হবে, সেই ওয়ার্ডের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ও মশার উপদ্রব সবচেয়ে কম থাকবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে।”

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় নগর ভবনের ৫ম তলার সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক ফগার মেশিন বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে ডা. শেখ মোস্তফা আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, ওয়ার্ড সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যে মশা নিধনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়, তা উন্নতমানের এবং পরীক্ষিত। এসব ওষুধের সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান মিশিয়ে কেউ অসাধু উপায়ে ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মোট ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথম ধাপে জানুয়ারিতে ১৬টি এবং আজ দ্বিতীয় ধাপে ১২টি ফগার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ওয়ার্ডেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

নাসিক প্রশাসক বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিকদের সচেতন করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কাজ করা হবে। তিনি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে ফগার মেশিন তুলে দেওয়া হয়। নাসিক সূত্র জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ওয়ার্ডগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।