৫০ ঘণ্টায় তিন খুনে রক্তাক্ত বন্দর, চারজন গ্রেপ্তারেও কাটছে না আতঙ্ক; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন / ১০০০
৫০ ঘণ্টায় তিন খুনে রক্তাক্ত বন্দর, চারজন গ্রেপ্তারেও কাটছে না আতঙ্ক; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা

৫০ ঘণ্টায় তিন খুনে রক্তাক্ত বন্দর, চারজন গ্রেপ্তারেও কাটছে না আতঙ্ক; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা

 

স্টাফ রিপোর্টার: জিহাদ হোসেন

 

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রায় ৫০ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ছুরিকাঘাতে রাসেল, ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে মাকসুদা বেগম এবং পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ সুফিয়া আক্তার নিশি হত্যার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেলেও একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রথম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ ঘারমোড়ায় হাজী আসমত উল্লাহ স্কুলের পেছনে। সেখানে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাসেল (৩৬) নিহত হন। তিনি ওই এলাকার মৃত শেখ আহামদ মিয়ার ছেলে।

 

এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদপুর এলাকায় ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মাকসুদা বেগম (৭২) নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর ছেলে জজ মিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়ী সাদ্দামের প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। টাকা চাইতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।

 

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে গৃহবধূ সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) হত্যার ঘটনা ঘটে। তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনিরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানান বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

 

পরপর তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বন্দর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত ও পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।