

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মো. রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার আহসান ভিলা (মিয়া বাড়ি) সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলুল হকের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ থানার দেউলাবাড়ি গ্রামে। তিনি গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই রাতে নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি এক নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে থাপ্পড় দিয়ে ঝগড়া থামাতে বলেন। একইভাবে ফজলুল হকও ঝগড়া না করার পরামর্শ দেন। পরে নোবেল ফোন করে কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ফজলুল হককে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরদিন ১৯ জুলাই সকালে ভাড়া বাসায় হঠাৎ রক্তবমি করে মারা যান তিনি।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মেয়ে ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। মামলাটি আপস বা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা বিভিন্ন সময় তার বাবাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ কারণে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মো. রবিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।’
আপনার মতামত লিখুন :