চলে গেলেন দুই বাংলার খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
চলে গেলেন দুই বাংলার খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী

ওপারে পাড়ি জমালেন দুই বাংলার খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী এবং ফরিদপুরের কৃতি সন্তান যোগেন চৌধুরী। আজ (রোববার) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

 

 

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন শিল্পী। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময়ে নতুন করে মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সম্মতিতে শনিবার রাতেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যানসার ও সেপসিসের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন তিনি।

 

শিল্পকর্মে দেশভাগের যন্ত্রণার প্রকাশ

 

১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার দহরপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া যোগেন চৌধুরীর জীবন ও শিল্পে গভীর ছাপ রেখেছিল দেশভাগের ট্র্যাজেডি। উদ্বাস্তু জীবনের ক্ষত, মানুষের অসহায়তা এবং পারিপার্শ্বিক অসংগতিকে তিনি তাঁর অনন্য শিল্পভাষায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

 

হিন্দুদের পূজা নির্বিঘ্ন করতে ব্যস্ত কলকাতার মুসলিমরা

 

কালি, প্যাস্টেল ও জলরঙের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি তৈরি করেছিলেন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক শৈলী। তাঁর তুলিতে মানুষের ফোলা বা ভাঙাচোরা মুখাবয়বও হয়ে উঠত গভীর মানবিক অনুভূতির জীবন্ত প্রতীক।

 

বর্ণাঢ্য জীবন ও শিক্ষা

 

দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। ১৯৫৫ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৬০ সালে ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষকতা ও ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী।

 

প্যারিসের বিখ্যাত École des Beaux-Arts এবং ‘Atelier 17’-এ অঙ্কন ও ছাপচিত্রের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। ইউরোপীয় শিল্পচর্চার এই অভিজ্ঞতা তাঁর রেখা ও রঙের ব্যবহারে যোগ করেছিল এক নতুন মাত্রা।

 

কলকাতায় মুসলিমদের পানি না দেওয়ার অভিযোগ, জাতিসংঘে চিঠি

 

কর্মজীবন ও প্রশাসনিক অবদান

 

কেবল তুলি আর ক্যানসারেই সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁর অবদান; প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি রেখে গেছেন গভীর ছাপ। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে অধ্যাপনা এবং পরবর্তীতে প্রধানের দায়িত্বও সামলান। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভূষিত হয়েছেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক বেসামরিক খেতাব পদ্মভূষণ-সহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে। ফরাসি সরকারও তাঁর শিল্পকর্মের বিশেষ স্বীকৃতি দেয়।

 

শিল্পচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষভাগে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য (এমপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এই গুণী শিল্পী।