সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যা: ছাত্রদল নেতাসহ ২১ জনের নামে মামলা


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ন / ১০০০
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যা: ছাত্রদল নেতাসহ ২১ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা রিজভীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে দশজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

 

নিহত জহিরুল ইসলাম কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে ফার্মেসি চালাতেন।

 

মামলার এজাহারে ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় তার মামাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকির পাশাপাশি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়।

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে রিজভী ও তার লোকজন জহিরুলের ওপর হামলা করেন। ওই ঘটনায় জহিরুল বাদী হয়ে একই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলাটি বিচারাধীন।

 

বাদীর অভিযোগ, ওই মামলার আসামিসহ অন্য অভিযুক্তরা এরপরও জহিরুলকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। নিরাপত্তার কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে অন্যত্র বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যে এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন।

 

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে চর হোগলার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে তাঁর পথরোধ করা হয়।

 

 

বাদীর অভিযোগ, রিজভীর নেতৃত্বে আসামিরা চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। তারা জহিরুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যান। পরে স্বজনেরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম ও আঘাতের বিবরণ জানান। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বারিক জানিয়েছেন, জহিরুল হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।