

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চার বছর ধরে ভেটেরিনারি সার্জন নেই। জরুরি বিভাগও রয়েছে বন্ধ। এতে সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার পাঁচ শতাধিক খামারি ও হাজার হাজার গবাদিপশু-হাঁস-মুরগি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, রাজনগর উপজেলায় ব্যক্তিপর্যায়ে কৃষকেরা গরু-ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মুরগি লালন-পালন করছেন। অথচ প্রায় চার বছর ধরে হাসপাতালে ভেটেরিনারি সার্জন পদটি শূন্য। ৩ বছর আগে কিছুদিনের জন্য একজন সার্জন দায়িত্বে থাকলেও পরবর্তীতে তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এছাড়া হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ১১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৬ জন। এরমধ্যে আবার দুজন রয়েছেন প্রশিক্ষণে।
খামারীরা জানান, সার্জন না থাকায় অনেকেই গ্রামের চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ান। ফলে অনেক সময় খামারি বা কৃষকের গৃহপালিত পশু মারা যায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানালেও জনবল সংকটে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
উপজেলার পোলট্রি খামারি সুমন মিয়া ও মিনহাজ আহমেদ বলেন, আমরা উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে কোনো সেবা পাই না। অনেক সময় গৃহপালিত পশু অসুস্থ হয়ে মারা যায় অথচ চিকিৎসার জন্য কাউকে খুঁজে পাই না। অনেকেই বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দেখাচ্ছেন।
সঠিক চিকিৎসার অভাবে হাঁস-মুরগি প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে দাবি করে খামারি নাজমুল হক ও সোয়েব আহমদ বলেন, হাসপাতালে ভেটেরিনারি সার্জন নেই, তাই হাঁস-মুরগির অসুখ হলে চিকিৎসা করানো যায় না। এতে করে প্রতিনিয়ত হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোক্তাদির বিল্লাহ বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ভেটেরিনারি সার্জন নেই। ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় চিকিৎসাসেবা অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, রাজনগরে ভেটেরিনারি সার্জন না থাকার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে দুইবার লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
আপনার মতামত লিখুন :