হোয়াইট ক্রিমিনাল আলেককে গ্রেফতারে প্রশাসনের বাঁধা কোথায়?


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ন / ১০০০
হোয়াইট ক্রিমিনাল আলেককে গ্রেফতারে প্রশাসনের বাঁধা কোথায়?

হোয়াইট ক্রিমিনাল আলেককে গ্রেফতারে প্রশাসনের বাঁধা কোথায়?

 

বহু অপকর্মে হোতা এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে জ্যোতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ক্রাইম পার্টনার হিসেবে মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা আলেক। স্মাগলিংসহ বহু অপকর্মে জড়িয়ে বিশাল অর্থ ও সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। কিন্তু এই হোয়াইট ক্রিমিনাল আলেক এখনো বহু অপকর্মের জনক হয়ে অপকর্ম সংগঠিত করে মিজমিজি এলাকায় আত্মগোপনে থেকে প্রভাব বিস্তার করছে। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই পুলিশ র‌্যাব এমপি মন্ত্রী প্রশাসনিক সকল পর্যায়ে তার ভাই,বন্ধু,আত্মীয় স্বজন রয়েছে পাল্টা হুমকি দেয়। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৩৫ নম্বর আসামি হয়ে এখনো প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন অপকর্ম এখনো সংগঠিত করছেন। এছাড়া মামলায় আসামি হবার পর থেকেই আলেক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে, তার অবৈধ অর্থের প্রভাবে বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালাচ্ছেন মামলা থেকে নিস্তারের জন্য। এখনো কেন আলেক গ্রেফতার হচ্ছে না এবং আলেককে গ্রেফতারের বাঁধা কোথায়? যেটা নিয়ে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩) এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি আলেক। আলেকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের পাহাড় দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ,নারী কেলেঙ্কারি, স্মাগলিংসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ধনুহাজী এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার ইমন জানান, “আলেকের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন।”এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, আলেক বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। স্বর্ণ চোরাচালান ও বিপুল সম্পদের তথ্য রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে জ্যোতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আলেক নেপথ্যে থেকে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে প্রায় ২৭টি বাড়ি ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে আত্মগোপনে থেকেও আলেক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন মিছিল-মিটিং ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বড় অঙ্কের অর্থ জোগান দিচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি,গুরুতর সব অপরাধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামি হয়েও আলেক কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার তদবির করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, আলেকের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া আলেককে গ্রেফতারের বাঁধা কোথায় প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন এলাকাবাসী।