জামায়াত-এনসিপির আদর্শে মিল নেই, একসঙ্গে রাজনীতি সম্ভব নয়: রাশেদ খাঁন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
জামায়াত-এনসিপির আদর্শে মিল নেই, একসঙ্গে রাজনীতি সম্ভব নয়: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শনে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

 

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

 

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে সংসদীয় রাজনীতির স্বার্থে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করেছিল। তবে শুরু থেকেই দুই দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ছিল। জোট গঠনের পর এনসিপির তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে তাসনিম জারাসহ একাধিক নেতা দল ছেড়েছেন। সম্প্রতি সামান্তা শারমিনের দলত্যাগও দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে।

 

তিনি মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকার কারণে এনসিপির ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতপার্থক্য বাড়ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন। তাই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

 

জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু অডিও, ভিডিও ও স্ক্রিন রেকর্ডের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এসব বিষয়ে তার কাছেও কিছু তথ্য ও প্রমাণ এসেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়ার দুই শিক্ষার্থীর মাধ্যমে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দ্য ডিসেন্ট ও রিউমার স্ক্যানারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্য ডিসেন্ট আমির হামজার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। পরে অন্য একটি মাধ্যম থেকেও তিনি কিছু অডিও-ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

রাশেদ খাঁনের দাবি, আমির হামজাকে ঘিরে আলোচিত বিষয়টি সম্পর্কে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আগে থেকেই অবগত ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কুষ্টিয়া-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় জামায়াত আমির হামজাকে মনোনয়ন দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উচিত বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আমির হামজাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

এ ছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের উচিত এসব অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।