রাজশাহীতে ৪৫ ফুটের দুর্গা প্রতিমায় নজরকাড়া আয়োজন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
রাজশাহীতে ৪৫ ফুটের দুর্গা প্রতিমায় নজরকাড়া আয়োজন

 

রাজশাহী মহানগরীর রানীবাজারে টাইগার সংঘের পূজামণ্ডপে প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। লাল পটভূমিতে রুপালি প্রতিমা, সোনালি অলংকরণ ও দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ সজ্জায় নজর কাড়ছে এবারের আয়োজন।

 

 

প্রতিমার বিশালত্ব ও নান্দনিক কারুকাজ দেখতে ভিড় করছেন ভক্ত-দর্শনার্থীরা। টাইগার সংঘের ৪৫তম আয়োজনের এই প্রতিমা রাজশাহীর দুর্গোৎসবে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। এছাড়াও মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও সাজসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহী।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে রানীবাজারের টাইগার সংঘের মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, লাল কাপড়ের পটভূমিতে স্থাপন করা হয়েছে বিশালাকার দশভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমা।

 

প্রতিমার মাথায় কারুকাজ করা মুকুট, শরীরে সোনালি অলংকরণ এবং দুই পাশে বিস্তৃত বাহুগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম। নিচে মণ্ডপের প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে লাল ও সোনালি রঙের নকশায়। সব মিলিয়ে প্রতিমা ও মণ্ডপের সাজসজ্জায় তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ।

 

প্রতিমার বিশাল কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে অলংকরণ সবকিছুতেই শিল্পীদের শ্রম ও পরিকল্পনার ছাপ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা শিল্পের সঙ্গে আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয় দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে আসছেন অনেকে, কেউ প্রতিমা দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ উপভোগ করছেন পূজার পরিবেশ।

 

টাইগার সংঘের এই আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ প্রতিমার উচ্চতা ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা। পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি নান্দনিক সাজসজ্জা উপভোগ করতেও ভিড় করছেন মানুষ।

 

থানার ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে এএসআইয়ের জিডি, ওসি বলছেন ‘গুজব’

এদিকে,মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের কাছে বিশাল প্রতিমাটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিমার কারুকাজ, অলংকরণ এবং মণ্ডপের সাজসজ্জা নিয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। সুপ্তি রায় নামে এক দর্শনার্থী বলেন, এত বড় প্রতিমা কাছ থেকে দেখা সত্যিই অন্য রকম অভিজ্ঞতা। প্রতিমার কারুকাজ ও সাজসজ্জা খুব সুন্দর হয়েছে। পরিবার নিয়ে এমন আয়োজন দেখতে এসে ভালো লাগছে।

 

আরেক দর্শনার্থী পিয়াস কুমার হালদার বলেন, দুর্গাপূজায় বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখা আমাদের আনন্দের অংশ। টাইগার সংঘের বিশাল প্রতিমাটি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

 

দর্শনার্থী সুস্মিতা রায় বলেন, দশ হাতের দেবীকে যেভাবে করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক কথায় অসাধারণ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ আসছে এই মণ্ডপে দেবীকে দেখতে।

 

টাইগার সংঘ মণ্ডপের কার্যকরী সভাপতি সুশীল কুমার আগারওয়ালা এশিয়া পোস্টকে বলেন, লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫ ফুটের দুর্গা প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়তই, প্রতি বছরে নতুন নতুন থিম ব্যবহার করার চেষ্টা করি । এতে যারা ভক্ত অনুরাগী যারা রয়েছে তাদের আগ্রহটি অনেক বাড়ে।

 

এদিকে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার ৪৮৯টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে মহানগরীতে ৮৫টি এবং জেলার নয়টি উপজেলায় ৪০৪টি মণ্ডপ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১৭টি। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও সাজসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহী।

 

জেলা ও মহানগরের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজশাহীতে মোট ৪৮৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহানগরীর ৮৫টি মণ্ডপ ছাড়াও বাগমারা, তানোর, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, চারঘাট, মোহনপুর, দুর্গাপুর ও পবা উপজেলায় পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

 

উপজেলাগুলোর মধ্যে বাগমারায় ৮৬টি, তানোরে ৫৯টি, পুঠিয়ায় ৫৫টি, বাঘায় ৪৮টি, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ৪২টি করে, মোহনপুরে ২৫টি, দুর্গাপুরে ২৪টি এবং পবায় ২৩টি মণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি ঘিরে আয়োজকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে প্রতিমা দেখতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজশাহী মহানগর ও জেলায় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড়, চলাচল ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির এশিয়া পোস্টকে জানান, মহানগরীর পূজামণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ মোতায়েনের করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।