টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের তদন্ত শুরু, পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ন / ১০০০
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের তদন্ত শুরু, পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টটির নির্মাণ অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কমিটির সদস্যরা প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনেছেন।

 

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনিম জাহানের নেতৃত্বে সদস্যরা রিসোর্টটি পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের তাসনিম জাহান বলেন, রিসোর্টটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের বক্তব্যও শুনেছেন তারা। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

 

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, কমিটিতে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন। রিসোর্টটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

 

কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনাগুলোর অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাসনিম জাহান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, আবার অনেকে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানেন না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দ্রুত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। জনবলের অভাবে সব ক্ষেত্রে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সমন্বয়ে রিসোর্টগুলো দ্রুত যাচাই করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

টুপটুপ রিসোর্টের ছিল না ফায়ার ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে তাসনিম জাহান বলেন, কয়েকজনের স্বজন ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তাদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

সম্ভাব্য একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টে ছিলেন নাকি বাইরে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান কমিটির প্রধান।