‘ভিপি হওয়ার পর রুমের টেবিল পেতেই সাড়ে তিন মাস লেগেছিল’


Saimoon Islam প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন / ১০০০ Views
‘ভিপি হওয়ার পর রুমের টেবিল পেতেই সাড়ে তিন মাস লেগেছিল’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, ডাকসু ভবনে বসার মতো পরিবেশ ছিল না। ভিপির চেয়ার বা কাজের টেবিলটা পেতেই আমার সময় লেগেছিল তিন থেকে সাড়ে তিন মাস।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ডাকসু ভবনের সভাকক্ষে ঢাবির তিনজন শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তরের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

 

নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীরা যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিটি ভোট আমাদের কাছে আমানত। আমরা কথা দিয়েছিলাম আপন ভাই-বোনের মতো শিক্ষার্থীদের পারিবারিক, একাডেমিক বা যে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যায় মন-প্রাণ উজাড় করে পাশে থাকব। আলহামদুলিল্লাহ, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ডাকসু ভবনকে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে রূপান্তর করেছি। বিগত দিনে ডাকসুতে এক গ্রুপের সঙ্গে অন্য গ্রুপের চেয়ার নিয়ে মারামারি কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের নিচে দাঁড় করিয়ে রাখার যে চর্চা ছিল, তা আমরা বন্ধ করেছি।

 

বিগত এক বছরে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডাকসুর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ এর বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান ডিভাইস ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে ডাকসু টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধারের বিষয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতি টেনে ভিপি বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার টিউশনির টাকা জমিয়ে কেনা সাইকেলটি যখন চুরি হয়ে যায়, তখন আমি সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলাম। একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে বা টিউশনির টাকায় যখন একটি ফোন কেনে, আর সেটি হারিয়ে যায় তখন তার কষ্টটা কেমন হয় তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। সে কারণেই শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধারে আমরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় কাজ করে আসছি।

 

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন শিক্ষার্থীদের ফোন উদ্ধার করা ডাকসুর কাজ কি না! জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বিগত দুই বছরে একশ্রেণির রাজনৈতিক বন্ধুর মূল কাজই ছিল আমাদের অন্ধ বিরোধিতা করা। তবে তাদের কোনো এজেন্ডা না থাকলে আমরা দেশ বিনির্মাণের জন্য গঠনমূলক এজেন্ডা তৈরি করে দিতে রাজি আছি।

 

ছাত্র সংসদের জবাবদিহি ও ভবিষ্যৎ ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে ভিপি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব কল্যাণমূলক কাজ করেছি এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ‘খতিয়ান’ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে কাজের হিসাব দিয়েছি। আমরা ক্ষমতার চেয়ারে স্থায়ী হতে আসিনি। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ ধারার রাজনীতি বজায় রাখতে আমরা প্রতিটি কার্যনির্বাহী মিটিংয়ে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করা এবং দ্রুত রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।