আসন্ন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় তিন প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
যদিও চেয়ারম্যান পদে একাধিক ব্যক্তির আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছে, তবে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন।
আলোচিত এই তিন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন—নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় সাইদুর রহমান
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন সাইদুর রহমান। তিনি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ ছাত্রছাত্রী কল্যাণ পরিষদের সদস্য সচিব, কাশিপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে সাইদুর রহমানের। তিনি কাশিপুরের নরসিংপুর এলাকার বাগে জান্নাত জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মোতাওয়াল্লি। পাশাপাশি কামাল বাজার এলাকার জান্নাতুল বাকী জামে মসজিদের সভাপতি এবং মধ্য নরসিংপুর সমাজকল্যাণ সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কাশিপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী আরিফ মন্ডল
অন্যদিকে, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন কার ভাগ্যে জোটে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেনকে ঘিরে আলোচনা
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেনের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আক্তার হোসেনের আদি নিবাস মুন্সীগঞ্জে। তিনি গত মাসে কাশিপুর ইউনিয়নের ভোটার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের বাইরে থেকে আসা একজন প্রার্থীকে কাশিপুরের ভোটাররা কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যাবে ভোটের সমীকরণ?
সব মিলিয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন, সাংগঠনিক অবস্থান, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হতে পারে নির্বাচনের সমীকরণ।
শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন এবং ভোটাররা কাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও প্রচারণা শুরুর সময় পর্যন্ত।