বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী জালিয়াছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জালিয়াছড়ি এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-১৫।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের র্যাব-১৫ জানতে পারে জাহাঙ্গীর আলমের বসতবাড়িতে বিপুল ইয়াবা মজুত রাখা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতবাড়ির উঠানের পাশে মাটির নিচে বিশেষভাবে বস্তাবন্দি অবস্থায় ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রাখার বিষয়টি জানা যায়।
পরে সেখানে মাটি খুঁড়ে ১০টি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বান্ডেলে ১০ হাজার পিস করে মোট ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। এ সময় মাদক পরিবহন ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত একটি বাটন ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জালিয়াছড়ি এলাকার আলী আহমদ ও গুলবাহার দম্পতির ছেলে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে মাদক সংগ্রহ করে বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
র্যাবের ধারণা, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার চালান সংগ্রহ ও মজুতের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মাটির নিচে ইয়াবা পুঁতে রাখার কৌশলটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর একটি পদ্ধতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক জানান, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেও র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ অভিশাপ থেকে সমাজ ও দেশকে মুক্ত রাখতে র্যাব-১৫ নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্তবর্তী এলাকাসহ মাদকের উৎস ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।