উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাড়াতে সাভারে প্রস্তুত থাকা ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ দ্রুত চালু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-কে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মহাখালীর নিপসম অডিটরিয়ামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এবং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় কীভাবে আমাদের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাকে পৌঁছানো যায়, সেটির ওপর।
তিনি বলেন, আমরা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সকে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের ভিত্তি বলে মনে করি। যে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ও ঘোষণা দিয়েছি—বাংলাদেশের সকল ৩০ বেড এবং ৫০ বেডের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোকে আমরা ১০১ বেডের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে পরিণত করব।
বিগত দিনের পরিস্থিতি ও ভগ্নদশা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যদি সিচুয়েশন এনালাইসিস করা হয়, বিশেষ করে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একেবারে ভগ্ন দশা। কারণ সেখানে আমাদের রাইট ইনভেস্টমেন্ট হয়নি, সঠিক জনবল তৈরি করে পদায়ন করা যায়নি এবং সাপ্লাই-লজিস্টিকস নিয়ে যেভাবে কাজ করার কথা ছিল, পুরো সিস্টেমটা অবহেলায় ভেঙে পড়েছে।
নিপসম পরিচালিত গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতার প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন যেসব বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগৃহীত হয়, তা ব্যবহার করে উপজেলা লেভেলেই স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
ইউএইচএফপিওদের নিয়ে পাইলট ভিত্তিতে অনলাইন বা জুমে এই ডেটা ব্যবহারের কৌশল শেখানোর ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে নিপসমের গবেষক দলকে আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত।