বক্তাবলী ইউপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও পরিষদের কার্যক্রমে সদস্যদের বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিষদের তহবিলে থাকা অর্থ, ব্যয় এবং সম্পাদিত বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কোনো হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একাধিকবার হিসাব চাইলেও বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে আদায়কৃত অর্থেরও কোনো হিসাব সদস্যদের জানানো হয়নি। ওই অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ইস্টিমেট (বিস্তারিত বিবরণ) সদস্যদের দেওয়া হয়নি। ফলে নিজ নিজ ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে তারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নুপুর আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি একাধিকবার ইস্টিমেট চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং তার ওয়ার্ডের কাজ অন্যদের দিয়ে করানো হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যানের মা, গ্রাম পুলিশ জোসনা, পরিষদের সচিব এবং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার সহযোগিতায় সদস্যদের বসার চেয়ার পর্যন্ত সরিয়ে ফেলা হয়, যাতে তারা পরিষদে বসে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।
সদস্যদের ভাষ্য, ১ শতাংশ প্রকল্পসহ উপজেলা থেকে আসা বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ সমভাবে বণ্টন না করে অনেক প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া পরিষদের সচিব তারেক আজিজের বিরুদ্ধেও তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সদস্যদের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেও সচিব কোনো তথ্য দেন না। নিয়মিত মাসিক সভাসহ কোনো সভায় তাদের ডাকা হয় না এবং নতুন কোনো বরাদ্দ এলেও তা সদস্যদের অবহিত করা হয় না।
তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি